দীর্ঘ পনের বছর পেরিয়ে ষোল বছরে পা দিয়েছে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর। নেপালের সাথে বানিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এই স্থল বন্দরের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৭ সালের ১ লা সেপ্টেম্বর। এরপর ভারতের সাথে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশে পরিমিত আমদানী রপ্তানী শুরু করে ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে। সরকারের কূটনৈতিক অবহেলা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চেষ্টার ত্রুটি থাকায় এখনও পূর্ণাঙ্গ রুপ পায়নি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর।
স্থানীয় জনগণের বার বার জোরালো দাবিতেও চালু হয়নি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। ভারতের সাথে বাংলাবান্দা স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য চুক্তির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও ভারতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রণব মূখার্জি। দু-দেশের প্রতিনিধিই একই সুরে স্বাভাবিক আমদানী রপ্তানীর ব্যবস্থা সহ ইমিগ্রেশন চেক-পোষ্ট চালুর ঘোষণা দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চুক্তি ও সরকারি বিধি মোতাবেক বাংলাদেশী ব্যাবসায়ীরা শুধুমাত্র পাথর আমদানী করতে পারবে ভারত থেকে। আর ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের সকল বৈধ পন্য ক্রয় করার সুযোগ পায় । বাংলাদেশে অবাধ রপ্তানীর সুযোগ না পেয়ে ব্যবসার আগ্রহ হারাচ্ছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যাবসায়ী সংগঠন গুলোর সমন্বয়হীনতা ও বলিষ্ঠ ভূমিকার অভাবে আলোর মুখ দেখছে না সম্ভাবনাময় বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর। বিশেষজ্ঞদের মতে ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে দেশের অন্য স্থলবন্দরগুলো অপেক্ষা বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। পঞ্চগড় জেলা রাজস্ব বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০১১-১২ অর্থ বছরে এ বন্দরে সরকারের আয় হয় ১১ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৭৬৪ টাকা। ১ কোটি ২০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা আয় হয় ২০১২-১৩ অর্থ বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্দর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এ বন্দর থেকে বছরে সরকারের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পঞ্চগড় এক্সপোর্টাস এন্ড ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশন সভাপতি জানান, ইমিগ্রেশন চেক-পোষ্ট ও স্থলবন্দরের কার্যক্রম পরিপূর্ণ রুপ পেলে সরকারের রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের পদ সৃষ্টি হবে। এদিকে গত ১২ নভেম্বর/১২ইং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সাথে আঞ্চলিক ও আন্তসীমান্ত বাণিজ্য বাড়াতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেন এ বন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হবে। উল্লেখ্য, পঞ্চগড় নাগরিক কমিটির আহবানে সর্বশেষ কঠোর কর্মসূচীতে জেলার সকল স্কুল,কলেজ,অফিস আদালত ,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম কর্মীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এক ঘন্টা কর্ম বিরতি রেখে হাতেহাত মিলিয়ে পঞ্চগড় শের-এ-বাংলা পার্ক থেকে বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৫ কিলোমিটার মানববন্ধনে ইমিগ্রেশন চেক-পোষ্ট ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পূর্নাঙ্গ চালুর জোর দাবি জানায়।
লাইক:
0
দেখা হয়েছে: ০ বার