পানি ও বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে বরিশালের জেনারেল (সদর) হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে পারছেনা ডাক্তাররা। টয়লেট থেকে শুরু করে সামান্য পানির প্রয়োজন হলেও ডাক্তার থেকে শুরু করে রোগীদের খুজতে হচ্ছে পরিচিত বা নিকটতম আত্মীয় স্বজনদের বাসভবন। হাসপাতালটির এ দূর্দশা বছরখানেক ধরে চলছে। হাসপাতালটির অভ্যন্তরীন কোন্দল এ কারণে দায়ী বলে মনে করছে হাসপাতালের কর্মচারীরা। হাসপাতালটির ডাক্তার এস এম মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, ও পথিক কুমার বনিক জানিয়েছেন, হাসপাতালটিতে পদে পদে সমস্যা। বিদ্যুৎ বিহীন মোমের আলোতেও অপারেশন করেছেন তারা। তাদের ঘাম টপটপ করে ওটিতে থাকা রোগীর গায়ে পরার মত ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। তারা আরও জানান, পাম্প আছে কিন্তু পানি নেই। দীর্ঘদিন ধরে পাম্পটি নষ্ট হয়ে রয়েছে। নষ্ট হওয়ার তালিকায় আরো রয়েছে, হাসপাতালটির জেনারেটর। জেনারেটরটি অযন্তে, অবহেলায় নষ্ট হতে চলেছে। হাসপাতালের জেনারেটরটি চালু করতেই তৈল লাগে প্রায় ১৫ গ্যালন বলে জানান তারা। যে কারণে সরকার এটির চাহিদানুযায়ী তৈল দিচ্ছেনা। তবে হাসপাতালটিতে ২টি সংযোগ দেয়া গেলে সাধারণ রোগীরা নির্ভয়ে সেখানে যে কোন ধরনের অপারেশন করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তারা। অবশ্য এ সমস্যা সমাধান করতে গেলে নগরপিতার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবী তাদের। গোপন একটি সূত্র জানায়, হাসপাতালটির সামনেই বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ২টি বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। অথচ হাসপাতালে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ২টি বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়নি কর্তৃপক্ষ। সূত্রটি আরও জানায়, হাসপাতালটি কতিপয় ডাক্তারদের রাজনীতির শিকার। হাসপাতালটির সমস্যাগুলোকে সমাধান করা হচ্ছেনা কতিপয় ডাক্তাররা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের কারণে। নানা অজুহাতে কোন ঠাসা করা হয়েছে সদর হাসপাতালটিকে। সূত্র মতে, বরিশাল সদর হাসপাতালের ৩৬ জন চিকিৎসক পদে কর্মরত আছেন ১৮ জন চিকিৎসক। ১৮ জনের মধ্যেও অনেকে নেই বর্তমানে। তবুও কম সংখ্যক চিকিৎসক আর কর্মচারী দিয়ে ভালো ভাবেই চলতো এ হাসপাতাল। প্রতিদিন গড়ে ৭ মায়ের সিজারসহ ১০/১২ জন রোগীর অস্ত্রপচার হতো। কিন্তু ধীরে সেই ঐতিহ্যবাহী হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এর অন্যতম কারণ হিসেবে নগরবাসী কতিপয় চিকিৎসকের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক কারণ বলে দাবী করেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৮ মে এ হাসপাতালে এপেনডিসাইটিসের অপারেশনের সময় বিদ্যুত চলে যাওয়ায় দূর্ঘটনা বশত প্রাণ হারায় নগরীর স্কুল ছাত্রী আনার কলি। এ ছাত্রীর মৃত্যুতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা নগরী। ছোট একটি অস্ত্রপচার কালে এ অস্বাভাবিক মৃত্যু কোন অভিভাবকই মেনে নিতে পারেন না। কিন্তু এ ঘটনার মুল রহস্য বা এ ঘটনার জন্য কে বা কারা দায়ী তা পর্যবেক্ষণ না করেই কতিপয় চিকিৎসক মাঠে নামেন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক ভাবে লাভবান হতে। আনার কলির মৃত্যুকে পূজি করে রিতিমতো তারা ব্যপক তৎপতা চালায়। সদর হাসপাতালটিকে রক্ষা করতে বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির নেতা প্রফেসর এম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তারা গতকাল দুপুর ১২টায় বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির উদ্যেগে হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এর কার্যালয়ে এক মত বিনিময় সভা করেছে। এতে হাসপাতালটির এ বিষয়গুলো সমাধান করতে নগরপিতার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবী তুলেছেন সকলে। হাসপাতালটির নব নিযুক্ত এর এমও ডাঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, ৯লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল পাওনা থাকায় হাসপাতালটিতে বিদ্যুতের ২য় সংযোগ আনতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া পানি সমস্যাতো রয়েছেই। তিনিও নগরপিতার হস্তক্ষেপ কামনা করে মন্তব্য করেন, হাসপাতালটির পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করা গেলে হাজার-হাজার রোগী স্বাস্থ্য সেবা পাবে।
লাইক:
1
দেখা হয়েছে: ০ বার