ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট শিব শঙ্কর ও মানিক হালদারের খুঁটির জোর কোথায়? সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে উপজেলাবাসীর মধ্যে। তাদের দূর্নীতির শেকড় এতোই শক্তিশালী যে প্রকাশ্যে সরকারী কর্মস্থলে না গিয়ে “প্রতারণামূলক প্রাইভেট চিকিৎসা ব্যবসার” বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। কোন বৈধ কাগজ পত্র ছাড়াই নিজেদের ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞ সার্জন পরিচয় দিয়ে উপজেলার সহজ সরল রোগীদের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পাশাপশি প্রতিদিন ৪/৫ টি অপারেশনও করছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় পান বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের বিধি-নীতি উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় স্থানীয় একটি ক্লিনিকে জমজমাট বানিজ্য চললেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসন সকলেই রহস্য জনক নীরবতা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মানিককে আমুয়ায় বদলি করে দিলেও বরিশাল ডিজি অফিসকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৬ এপ্রিল মানিক হালদার রাজাপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জয়েন্ট করার পর থেকে তার স্ত্রী কোহিনুরকে একটি ক্লিনিকের প্রধান নার্স বানিয়ে রমরমা চিকিৎসা ব্যবসা শুরু করে। একই ভাবে রাজাপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপর মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট শিব শংঙ্করও একই ক্লিনিকে একই সাথে চিকিৎসা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দুজনেই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট হলেও তাদেরকে দিনের কোন সময়েই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা বা পাওয়া যায় না। সাংবাদিকরা উক্ত ক্লিনিক ঘুরে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে মানিক একটি ডিস্কভার মটরসাইকেল চালিয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসতে দেখা যায়। এসময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক কর্মচারী বলেন, আমি গত এক বছরের মধ্যে আজকেই প্রথম দেখলাম যে মানিক সকালে হাসপাতালে এসেছে। মনে হয় আপনারা (সাংবাদিকরা) আসার বিষয়টি আগেই সে টের পেয়েছে। হাসপাতালে মানিকের সাথে কথা বলতে গেলে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর ৫/৬ জন প্রতিনিধি তার সাথে কথা বলাতে থাকে। এ ব্যাপারে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ নওশের আলির এদের বিষয় সবকিছুই জানেন বলে স্বীকার করেন। কিন্তু কোন ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেনো জানতে চাইলে বলেন, আগের সিভিল সার্জন ডাঃ জাহাঙ্গির তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও সে টাকার বিনিময়ে আবার পূর্বের স্থানে ফিরে এসেছে। এখন বলেন অফিশিয়ালি তার অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো। আপনারা তার কথা লিখতে পারেন কিন্তু ডিজি অফিসের কিছু লোক আছে যাদেরকে ম্যানেজ করে সে বহাল তবিয়তে থাকবে।
এ ব্যাপারে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডাঃ বজলুল হক জানান, আপনাদের জেলায় বর্তমানে নূতন সিভিল সার্জন এসেছে তার কাছে বলেন। এদের নাম লিখে রাখলাম বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানানো হবে। ঝালকাঠিতে সদ্য আগত সিভিল সার্জন ডাঃ মাছুম আলীর সাথে আলাপকালে জানান, রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে এ দুই জন মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট মানিক ও শিব শংঙ্কর এর ব্যাপারে এ্যাকশনে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমি কোন দুর্নীতিবাজ কর্মচারী কে টলারেট করবো না, আপনারা আমাকে যে কোন ব্যাপারে জানাবেন। তাৎক্ষনিক ভাবে খতিয়ে দেখব ও অভিযুক্ত হলে তাকে কঠিন ব্যবস্থা নেব।
লাইক:
1
দেখা হয়েছে: ০ বার