নগরিতে ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টার গুলোর কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে পরিবারগুলো। তথাকথিত শিক্ষার নামে প্রতি মাসে আদায় করে নিচ্ছে গলাকাটা ফি। আর প্রতি বছরই ভর্তি সহ পরীক্ষার খরচ বাড়ছে যার কোনই নিয়ম কানন নেই নিজেদের ইচ্ছে মতন যখন তখন টাকার পরিমান বাড়িয়ে দেন। এর ফলে বিপাকে পড়ছে ঐ কোচিং সেন্টারে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা। প্রতি বছর ফি‘র পরিমান বৃদ্ধির ফলে আর্থিক সমস্যায় পরছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো। বরিশাল নগরির বিভিন্ন রোড়ে ছোট ছোট রুম ভাড়া নিয়ে গড়ে উঠছে কোচিং সেন্টার। আর এই কোচিং সেন্টার গুলো জায়গা এত কম সেখানে খেলাধুলা করার জন্য তেমন কোন মাঠ নেই ফলে শিশুরা খেলাধুলা করার সুযোগ পাচ্ছে না। আর এর কারণে শিশুদের শারিরীক বিকাশ হচ্ছে না। এমনকি যে পরিবেশে লেখা-পড়া শিখছে সে পরিবেশও স্বাস্থ্য সম্মত নয়। সরজমিনে দেখা যায় যে রুমে ১০ থেকে ১৫ জন শিশু বসতে পারে সেখানে তার চেয়ে তিন গুন বেশি শিশু বসে লেখা-পড়া শিখছেন। সরকারী স্কুলের শিক্ষকরা স্কুলে পাঠ দানের চেয়ে বেশি সময় দেন কোচিং সেন্টারে ও প্রাইভেটে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবক মহল। বিভিন্ন পোস্টার সাইন বোর্ড লিফলেট প্রতিষ্ঠানের সুনামের কথা নিজেদের ইচ্ছে মতন করে রং মাখিয়ে লেখা রয়েছে। কিন্তু লেখার সাথে বাস্তবে কোন মিল নেই।কোচিং সেন্টারে যারা পরাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই শিক্ষক কলেজের ছাত্র। এই সকল সেন্টারে শারিরীক শাস্তির পাশাপাশি মানসিক নির্যাতনও চলে। শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এমন হলে বিভিন্ন অযুহাতে তারা অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। ভর্তি ,নোট, পরীক্ষার ফি ও বিভিন্ন সিট সব মিলিয়ে এক জন ছাত্র-ছাত্রীর লেখা-পড়ার খরচ বাবদ বছরে দিতে হয় ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। এতে একটি মহল লাভবান হলেও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো এই খরচ মিটাতে হিমশিম খাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন শিক্ষক বলেন আমাদের যে বেতন দেয় তা দিয়ে সংসার চালানো মুশকিল তাই বেঁচে থাকার জন্য আমরা প্রাইভেট পড়াই শিক্ষদের বেতন বৃদ্ধি করলে কোচিং ও প্রাইভেট বানিজ্য বন্ধ হবে। এক জন অভিভাবক বলেন ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকদের হাতে জিম্মি কারণ সন্তানদের না পড়ালে সন্তোষজনক নম্বর মিলে না। আর এই সব কারণে অভিভাবকরা শিক্ষকদের অর্থলোভী হিসাবে দেখছেন।
লাইক:
2
দেখা হয়েছে: ০ বার