-
by হোসেন রায়হান
-
পঞ্চগড়
-
১৯ জুন ২০১২
-
১৩:৫৫
-
অপরাধ 
পঞ্চগড় জেলার আদালত গুলোতে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা দায়েরের প্রবণতা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক শ্রেনীর টাউট, বাটপার গ্রাম্য মাতব্বর আদালতের কতিপয় এডভোকেট ও মহুরীদের সহায়তায় মিথ্যা ও বানোয়াট ঘটনা সাজিয়ে আদালতে মামলা দাখিল করে সাধারণ মানুষজন কে পুলিশী হয়রানি সহ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে এই চক্রটি। পক্ষান্তরে লাভবান হচ্ছে দালাল চক্র। আদালতে মামলা দায়েরের পর বিবাদী পক্ষের প্রতি অপরাধের ধরন অনুযায়ি আদালত থেকে সমন, গ্রেফতারী পরোয়ানা, অথবা তদন্তের নির্দেশ জারি হবার পর সাধারণ মানুষ জেল জরিমানার ভয়ে ধর্না দিতে থানা পুলিশ, কোর্ট কাচারী সহ বিভিন্ন স্থানে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজ সরল মানুষকে জেল জরিমানার ভয় দেখিয়ে কাউন্টার মামলা, থানা পুলিশ,বিচারককে ম্যানেজ করতে প্রতারণার একাধিক ফাঁদ পেতে সর্বশান্ত করছে এক শ্রেণীর আইনজীবি, সহকারী আইনজীবি, পুলিশের দালালরা। আর এদের কথা বিশ্বাস করে সহায় সম্বল বিক্রি করে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন এ ধরনের শত শত ভুক্তভোগী মানুষের সন্ধান মিলবে আদালত পাড়ায়। দূর দূরান্ত থেকে আগত মানুষজন মামলায় আদালতে হাজির হতে এসে কি ভয়ানক বিড়ম্বনায় ঝুলছে তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বস করানো যাবে না। নির্ধারিত তারিখে উকিল মহুরীকে হাজিরার টাকা প্রদান সহ পিপি, কোর্টের পিয়ন, পেশকার কে বাধ্যতামূলক টাকা দেয়ার পর অনেক মানুষের কাছে গাড়ী ভাড়া ও খাবার টাকা থাকে না। জামিন প্রাপ্ত আসামীদের নিয়ম মাফিক পুলিশ কোর্ট অথবা জেলা কারাগার থেকে বের হবার সময় এক শ্রেণীর আইনজীবিরা বন্ডে স্বাক্ষর করার আগে সুযোগ মত টাকা নিয়ে বন্ডে স্বাক্ষর করে। তারপর কোর্টের পেশকার, পিয়ন সহ শ্রেনি মোতাবেক আদালতের সবাইকে টাকা না দিলে বিড়ম্বনার অন্ত থাকে না। এর পর পুলিশ কোর্টের বিড়ম্বনা তো আছেই। পুলিশ হাজতে কোন আসামীকে দেখতে হলে লোক প্রতি ৫০ টাকা দিতে হয়। আসামীকে ভাত বা অন্য কোন খাবার দিতে ১০০ টাকা দিতে হয়। জামিন প্রাপ্ত আসামীর ক্ষেত্রে সর্ব নিম্ন ১০০ টাকা থেকে অবস্থা ভেদে আদায় করা হয় অতিরিক্ত টাকা। নিরূপায় হয়ে বাড়তি বিড়ম্বনা এড়াতে নীরবেই মানতে হয় আদালত পাড়ার এই ক্যারিকেচার।
লাইক:
0
দেখা হয়েছে: ০ বার