কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে অবাদে বালু ও (মাটি মিশ্রিত বালু) তোলা হচ্ছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর ও দক্ষিণ চরটেকী গ্রামের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফসলি জমি, মসজিদ হুমকির মুখে পড়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত সরকারী কোন লিজ না থাকার পরও উপজেলার মুনিয়ারীকান্দা, মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি, বাহাদিয়া পাঠান বাড়ি, বাহাদিয়া বাজার ঘাট পর্যন্ত ৪ স্থান থেকে অবৈধভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অন্যদিকে মির্জাপুর ও দক্ষিণ চরটেকী নদীর কিনার থেকে বালু উত্তোলন করায় চরআলগী ও চরটেকী দু’টি গ্রামের মানুষ হুমকির মুখে পড়েছে।
এই বিষয়ে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করা হলেও কেউ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে তারা অভিযোগ করেন। এদিকে বালু উত্তোলনকারীরা হুমকি দিয়েছেন, কেউ বাঁধা দিতে আসলে তাদের ট্রাক্টরের চাকার নিচে পৃষ্ট করা হবে। প্রতিদিন ২/৩ ট্রাক্টর বালু ও মিশ্রিত বালু বিক্রি করা হয় বলে উত্তোলনকারীরা জানিয়েছেন। প্রতি ট্রাক্টর বালু ৪শত টাকা আর মিশ্রিত বালু ৩শত টাকা বিক্রি করা হয় বলে তারা জানান।
চরফরাদী ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে সহকারী ভূমি অফিসার নমিতা রানী বসাক বাদী হয়ে চেয়ারম্যান বাড়ি ও চরফরাদী ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. সাহাব উদ্দিনের ছেলে শামীম (২০), আশরাফ উদ্দিনের ছেলে ইকবাল (২৫), মৃত জালাল চেয়ারম্যানের ছেলে সোহেল (২৬) তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা করায় কিছু দিন বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। পুনরায় চালু হইলে ১৮ জানুয়ারী ২০১১ সালে সহকারী ভূমি অফিসার মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে চেয়ারম্যান বাড়ির মৃত আলাউদ্দিনের পুত্র মো. আলম (৩৫), আশরাফ উদ্দিনের ছেলে ইকবাল (২৬), শাহাব উদ্দিনের ছেলে শামীম (২০) এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং ২টি ড্রেজার মেশিন, ৫টি ট্রাক, ১টি শ্যালো মেশিন ও বালু উত্তোলনের সামগ্রী জব্ধ করে থানায় নিয়ে আসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফুন নাহার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুর রহমান। কিন্তু বালু উত্তোলনকারীরা মামলা- মোকদ্দমার তোয়াক্কা না করেই অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে বালু বিক্রয়ের বাণিজ্য।
লাইক:
0
দেখা হয়েছে: ০ বার