অসহায়, দুঃস্থ ও গরীব রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে জীবন তরী ভাসমান হাসপাতাল কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মেঘনা নদীর শহীদ হাবিলদার আবদুল হালিম রেলসেতু ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু সংলগ্ন স্থানে গত শনিবার থেকে অবস্থান নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বহির্বিভাগে ২০ টাকা টিকেটের বিনিময়ে ২০০ গরীব, অসহায় ও দুঃস্থ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। শহরের চণ্ডিবের, ভৈরবপুর, রেলওয়ে কলোনী, মুশকিলাহাটিসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে রোগীরা জীবন তরী ভাসমান হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভীড় জমাচ্ছে। এ ভাসমান হাসাপাতালে ৩৭ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর মধ্যে ৪ জন মেডিকেল অফিসার, ১ জন মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট অফিসার ও ৫ জন নার্স রয়েছে। হাসপাতালের সহকারী অর্থ ও প্রশাসন কর্মকর্তা নাজিবুল ইসলাম জানান, ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের অর্থায়নে ড. রেজাউল হক ও অন্ধ ব্যক্তি মনসুর আহমেদ চৌধুরী ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নামে জীবন তরী ভাসমান হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের নদী পথে ৩৭টি জেলার দুর্গম হাওরাঞ্চলসহ ৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৯ জনকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সার্জারি করা হয়েছে ৩১ হাজার ৩শ ১৮ জন রোগীকে। এছাড়াও ১৯৯৪ সালে চুয়াডাঙ্গায় এবং ২০০৪ সালে মেহেরপুরে এ প্রকল্পের মাধ্যমে আরো দুটি হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখান থেকে গরীব দুঃস্থ ও অসহায় রোগীরা বহির্বিভাগের মাধ্যমে ২০ টাকার বিনিময়ে টিকেট কিনে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন। জন্মগত বাকা পা, মুগুর পা, জন্মগত ঠোঁটকাটা, নাক-কান, গলা ইত্যাদি বিভিন্ন রোগীদের থেকে বাছাই করে জটিল রোগীদের চোখের অপারেশনের জন্য ১৫শ টাকা ও অন্যান্য জটিল অপারেশনের জন্য ২৫শ টাকার বিনিময়ে থাকা, খাওয়াসহ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে গরীব ও অসহায় রোগীদের এর চেয়েও ছাড় দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। প্রতি বছর জটিল ও কঠিন রোগের রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নরওয়ে থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে এ ভাসমান হাসপাতালটিতে সার্জারির মাধ্যমে স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত ৩৭টি জেলার নদী পথে অসহায়, দুঃস্থ ও গরীব রোগীদের ৪৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। একেকটি প্রকল্পের মেয়াদ ৩ মাস। তবে রোগীর সংখ্যা বেশী হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ক্রমে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। ভৈরবে এ ভাসমান হাসপাতালের ৪৫তম প্রকল্পের কাজ চালু হয়েছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ ৩ মাস। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়লে প্রকল্পের মেয়াদ আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।
লাইক:
1
দেখা হয়েছে: ০ বার